মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

পশ্চিম গোমদন্ডী ইউনিয়নের ইতিহাস

সবুজ, শ্যামল নদীমাতৃক এদেশ বাংলাদেশ । এদেশের দক্ষিণাশে অবস্থিত চট্টগ্রাম জেলার ১৪টি উপজেলার মধ্যে বোয়ালখালী উপজেলার অধীনে ১০ টি ইউনিয়ন  অন্যতম একটি ২নং পশ্চিম গোমদন্ডী ইউনিয়ন । পশ্চিম গোমদন্ডী ইউনিয়ন  কোন সালে স্থাপিত হয় তার সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায় নি। তবে অনুমান করা হচ্ছে ১৯৪২ সালের কোন এক সময় এই ইউনিয়নটি স্থাপিত হয়। বর্তমানে ইউনিয়ন এলাকার ১টিগ্রাম রয়েছে পশ্চিম গোমদন্ডী এবং পশ্চিম গোমদন্ডী নামের সাথে সঙ্গতি রেখেই এর নাম করন করা হয়েছে অনুমান করা হয়। তবে পশ্চিম গোমদন্ডী নামের উৎস বা ইতিহাস কারও জানা নেই। । প্রায় ৯৯২০ একর/৪০.৫৩ বর্গকিলোমিটার জায়গা জুড়ে এই ইউনিয়নটি অবস্থিত। হা্ওলা ডিসি সড়কের পাশ্র্ববর্তী পশ্চিম গোমদন্ডী ইউনিয়নের উত্তরে চরখিদিরপুর গ্রাম, দক্ষিনে শাকপুরা ইউনিয়ন পরিষদ পেরিয়ে চরখিজিরপুর গ্রাম। পশ্চিম গোমদন্ডী গ্রামের মধ্যে রায়খালী এলাকার পাশ দিয়ে অবস্থিত কর্নফুলী নদী।  ২০০১ সালের আদম শুমারীর ফলাফল অনুযায়ী সবর্মোট ৩৭০৩৮ জন মানুষ অত্র এলকায় বসবাস করে। তার মধ্যে পুরুষ ১৯০৮০ জন মহিলা ১৭৯৫৮ জন। ১৯৯১ সালের আদম শুমারী অনুসারে পুরুষ ১৪৮১৫ জন, মহিলা ১৪২৯৭ জন সরবমোট ২৯১১২ জন। কিলোমিটার। তবে বোয়ালখালী পৌরসভা ঘোষিত হওয়ায় উক্ত ইউনিয়নটি দুভাগে বিভক্ত হয়। উক্ত ইউনিয়নটির 1-6 টি ওয়ার্ড বোয়ালখালী পৌরসভা এবং 7-9 মোট 3টি ওয়ার্ডকে কেন্দ্র করে পশ্চিম গোমদন্ডী ইউনিয়নের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।  বর্তমানে 2017 সালের পরিচালিত খানা জরীপ অনুযায়ী উক্ত ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা 12172 জন।  পরিবার বৃদ্ধি পাওয়ায় লক্ষ্য অর্জনের জন্য অত্র ইউনিয়ন পরিষদে ইউনিয়ন ওয়াটসন কমিটি গঠন করে এর কাযর্ক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ইউনিয়নে পূরবের জরীপ দেখা যায মোট খানা/পরিবারের সংখ্যা ৬৩৩৫টি। এর মধ্যে ৯৪৫টি পায়খানা নির্মাণ ছাড়াই যত্রতত্র মলত্যাগ করতেন। সরকারি ভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে হত দরিদ্র পরিবারগুলির মধ্যে রিংস্লাব সরবরাহ করে পশ্চিম গোমদন্ডী ইউনিয়ন এলাকাকে ১০০ ভাগ স্যানিটেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা ২০০৯-১০ অর্থ বছরে গ্রহণ করা হয়েছে। ইতি মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জন করলেও এলাকায় পরিবার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ১০০ ভাগ স্যানিটেশন ঘোষণা করা সম্ভব হয় নি। ২০০৮ সালের জুন মাসের মধ্যে অত্র ইউনিয়ন এলাকায় ১০০% জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যাপক কাযক্রম গ্রহন করা হয়েছিল। ইতি মধ্যে ১০০% মানুষের জন্ম নিবন্ধন ও ১০০% মানুষের নিবন্ধন সনদ বিতরন করা হয়েছে। বর্তমান স্বাভাবিক নিবন্ধন কাযর্ক্রম চলছে। শিল্পায়ানের দিক থেকে চট্টগ্রাম জেলা দেশের অন্যতম জেলা হিসাবে চিহ্নিত। পশ্চিম গোমদন্ডী ইউনিয়ন তারই একটি অংশ। অত্র ইউনিয়নে রয়েছে চাষের উপযুক্ত জমি। স্বাধীনতার পুবর্কালে এখানে কৃষির তেমন কোনও উন্নতি হয়নি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পরবর্তীকালে বিশেষ করে ১৯৭৬ সালের দিকে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক ভাবে অগভীর ও গভীর নলকূপের সরবরাহ করা হলে চাষে একটি বৈপল্লবিক পরিবর্তন আসে। বর্তমানে উপসী, ইরি জাত, বোরো ধান,  সবজি,  ইত্যাদি চাষে ব্যাপক ফলন পাওয়া যাচ্ছে। এলাকার চাহিদা মিটিয়েও উদ্বৃত্ত খাদ্য, সবজি ও অন্যান্য শস্যাদি ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। টোব্যাকো তামাক চাষে শীর্ষে অবস্থান করছে। এখানে উন্নতমানের তামাক উৎপাদন হয়ে তা বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে। বর্তমানে ডিজেল, রাসায়নিক সার ইত্যাদির মূল্য বৃদ্ধির জন্য কৃষকরা আশানুরুপ লাভবান হতে পারছে না। ইউনিয়নের সব গ্রামে পটিয়া পল্লী বিদ্যূৎ সমিতি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে। মাঠে মাঠে ডিজেল চালিত অগভীর নলকূপগুলিতে শর্ত শিথীল করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারলে কুষিতে আরও পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। কৃষি উপযুক্ত জমিগুলির কিছু কিছু নীচুজলা ভূমি। এ গুলিতে শুধুমাত্র একবার ধান উৎপাদন হয়। বর্ষাকালে এর কিছু কিছু জমিতে দেশী পোনা মাছের চাষ হচ্ছে। বাকীগুলি অনাবাদী হিসাবে পড়ে থাকছে। জলাভূমির মালিকদের উদ্বুদ্ধ করে সমবায় ভিত্তিতে এ সকল জলাভূমিতে বিলুপ্ত প্রায় দেশি কৈ, মাগুর, শিং, গলদা চিংড়ি প্রভৃতি মাছ চাষের ব্যবস্থা করলে কৃষকরা আরও লাভবান হবে। দারিদ্র বিমোচনে গরু ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগী পালনে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। দেশী গরু, ছাগল, ভেড়া প্রজাতির পশু বিলুপ্তির পথে। উপযুক্ত উদ্দোক্তাদের খুঁজে বের করে তাদের ঋণ সরবরাহ করে বিভিন্ন উদ্দ্যোগ গ্রহণ করলে অনেকে গবাদি পশু পালন করে অধিক লাভবান হবেন। এ ধরণের কৃষকদের ছাগল ভেড়া, হাঁস-মুরগী পালনে উৎসাহিত করতে হবে। এ ইউনিয়নে পশ্চিম গোমদন্ডী একটা বড় বিল রয়েছে। এখানে মাছ চাষের পাশাপাশি হাঁস চাষ খুব লাভজনক হয়ে উঠতে পারে।  ইউনিয়নে অধিকাংশ  ইট এবং  পাকা ও কার্পেটিং করা সম্ভব হয়েছে।  আগামীতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। এ ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক পল্লী প্রকল্প -২৫ এর আওতায় জনগণের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত রেখে জবাবদিহি মুলক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য নিবার্চিত হয়ে ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে থেকে পাইলট প্রকল্প ভুক্ত হয়েছে।সম্ভব হবে। ফলে মানুষের জীবনের মান উন্নয়ন হবে। অত্র ইউনিয়ন এলাকায় মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে এবং অনেকে ত্যাগ স্বীকারে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতার সুফল মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

ছবি


সংযুক্তি



Share with :
Facebook Twitter